প্রথম ম্যাচে ৩২ রানের হারের ধাক্কা সামলে জিম্বাবুয়ের মাটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার বুলাওয়েওর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। এই দাপুটে জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা বিরাজ করছে, যা আগামী রোববারের শেষ ম্যাচটিকে রূপ দিয়েছে অলঘোষিত ফাইনালে।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের ১২০ রানের বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি স্বাগতিক বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হয়। তানজিদ তামিম ৪৪ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় খেলেন ৫৮ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস। অন্যদিকে, ৪৫ বলে সমান ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৫ রান করে ভিত শক্ত করেন সাইফ হাসান।
তবে ১৫তম ও ১৬তম ওভারে এই দুই থিতু ব্যাটার বিদায় নেওয়ার পরই হঠাৎ পথ হারায় বাংলাদেশ। মাত্র ১১ বলের ব্যবধানে ব্যাটিং ধস নামে টাইগারদের ড্রেসিংরুমে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন, এরপর দ্রুত বিদায় নেন পারভেজ হোসেন ইমন ও নুরুল হাসান সোহান। এক উইকেটে ১২০ রান থেকে চোখের পলকে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৪১ রান।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে ইনিংসের হাল ধরেন ইয়াসির আলি চৌধুরী, তিনি ১২ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন। তবে ইনিংসের আসল নাটকীয়তা বাকি ছিল শেষ ওভারের জন্য। ২০তম ওভারে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্র্যাড ইভান্সের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মেজাজের এক দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে শেষ ওভারের প্রথম চার বলেই টানা ৪টি বিশাল ছক্কা হাঁকান সাইফুদ্দিন। তার এই অনবদ্য ক্যামিওতে ভর করেই ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের বিশাল পুজি পায় বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। তবে সাইফুদ্দিনের তোপের মুখে পড়া ব্র্যাড ইভান্স ২ উইকেট পেলেও খরচ করেন রেকর্ড ৬৫ রান। এর মাধ্যমে এনগারাভার (৬২ রান) রেকর্ড ভেঙে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিংয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন ইভান্স।
রিশাদ-মেহেদীর স্পিন জাদুতে দিশেহারা জিম্বাবুয়ে
১৮৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লে-র মধ্যেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় জিম্বাবুয়ে। প্রথম ৬ ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট এবং প্রথম ৯ ওভারের ভেতর মাত্র ৫০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চূড়ান্ত বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
মাঝের ওভারে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ১২ বলে ২৮ রানের একটি ঝড়ো ক্যামিও এবং রায়ান বার্ল ১৯ বলে ২৯ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
বাংলাদেশের দুই স্পিনার রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী হাসানের স্পিন বিষে নীল হয় জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন মাত্র ২৬ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করে স্বাগতিকদের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে অফ-স্পিনার মেহেদী হাসান ২৪ রানে নেন ৩টি উইকেট। এই দুজনের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
📊 সংক্ষিপ্ত স্কোর:

