আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জেতার জন্য নিজের শারীরিক সুরক্ষাকে বিসর্জন দিয়েছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। সম্প্রতি সাংবাদিক গাস্তন এদুলের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলসা করেছেন যে, ভাঙা আঙুল নিয়ে কাতার বিশ্বকাপে মাঠে নামার কারণে তাঁর সেই আঙুল আর কখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। বিশ্বকাপ জয়ের জন্য রাতের পর রাত অসহ্য যন্ত্রণায় কেঁদেছেন এবং ‘জম্বির মতো’ ডাইভ দিয়েছেন তিনি।
গত মে মাসে ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে তাঁর সাবেক ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগেই আঙুল ভেঙে গিয়েছিল মার্তিনেজের। তবে অস্ত্রোপচার করালে ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হতো এবং বিশ্বকাপ মিস করতে হতো—এই ভয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যান তিনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক কোচ মার্তিন তোকাল্লি এবং দলের চিকিৎসক দানি মার্তিনেজের সঙ্গে আলোচনা করে অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস তাকে বাড়তি সুরক্ষার জন্য বিশেষভাবে তৈরি গ্লাভস সরবরাহ করে।
কাতার বিশ্বকাপের সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করে মার্তিনেজ বলেন, “আমি তখন জম্বির মতো ডাইভ দিতাম। এভাবে ডাইভ দেওয়ার পর উঠে হাত মাটিতে রাখলেই চোখে সরষে ফুল দেখতাম। প্রতিদিন রাত ১২টা পর্যন্ত কাঁদতাম। কারণ, আমার আঙুলটা রক্ত জমাট বাঁধা সসেজের মতো হয়ে গিয়েছিল।”
দেশের হয়ে খেলার ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “জাতীয় দলের জন্য এগুলো এমন ঝুঁকি, যা আপনাকে নিতেই হয়। আবারও এমন পরিস্থিতি হলে আমি একই সিদ্ধান্ত নিতাম।”
৬ বছর অ্যাস্টন ভিলা কাটিয়ে চলতি গ্রীষ্মে চেলসিতে যোগ দেন মার্তিনেজ। এর আগে জুভেন্টাস তাকে নিতে আগ্রহী হলেও আঙুলের চোটের কারণে সেই দলবদল ভেস্তে যায়। দ্য অ্যাথলেটিক জানায়, জুভেন্টাস মনে করেছিল এই অবস্থায় খেলা অসম্ভব। তবে চেলসি বিষয়টিকে গোলরক্ষকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে এবং স্বাভাবিক খেলার জন্য অস্ত্রোপচার জরুরি নয় বলেই মনে করছে ক্লাবটি।

