মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের টানটান উত্তেজনার ফাইনালে রেফারী ভিনচিচ এবং মেসির দীর্ঘ আলাপচারিতার দৃশ্য বহুবার ফুটে উঠেছিল সম্প্রচারিত ক্যামেরায়। মাঠের সেই কথোপকথন নিয়ে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মনে নানান কৌতুহল সৃষ্টি হলেও ভিনচিচ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাঠের কথা মাঠেই থাকাই শ্রেয়:
“সেই আলাপচারিতা আমি মাঠের ভেতরেই রেখে আসতে চাই। তবে এটুকু বলতে পারি, মেসি অত্যন্ত ক্রীড়াসুলভ আচরণ করেছেন এবং নিজের পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন।”
অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোল স্পেনকে ১–০ ব্যবধানের জয় এনে দেওয়ার পর আর্জেন্টিনার শারীরিক ফুটবল খেলার ধরণ কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়ে। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখায় রেফারীর কাছে আপত্তি জানিয়েছিলেন মেসি—যে ধরণের আচরণের জন্য টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচে এক খেলোয়াড়কে শাস্তি পেতে হয়েছিল। তবে এই ঘটনা নিয়ে ৩৯ বছর বয়সী তারকাকে কাঠগড়ায় তুলতে রাজি হননি ভিনচিচ।
২০২৬ সালের এই ফাইনাল ম্যাচটি ছিল ভিনচিচের বাঁশি হাতে পরিচালনা করা ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য ও অন্তিম অধ্যায়। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় স্লোভেনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (NZS) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর অবসর গ্রহণের ঘোষণা দেয়।
বিশ্বফুটবলের সর্ববৃহৎ মঞ্চে সহকারী রেফারী টোমাঝ ক্লাঞ্চনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচেচকে সাথে নিয়ে ম্যাচ পরিচালনার দারুণ অনুভূতি ও চাপের কথা স্মরণ করে ভিনচিচ বলেন:
প্রাথমিক বিস্ময়: পিয়ারলুইজি কলিনার কাছ থেকে ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার খবর শুনে প্রথমে বেশ অবাক হয়েছিলেন বলে জানান ভিনচিচ।
আবেগ নিয়ন্ত্রণ: তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপের মতো হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে খেলোয়াড়দের তীব্র আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ: দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখানোসহ বেশ কয়েকটি বড় সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভিনচিচ তাঁর দলের পারফরম্যান্সের ওপর শতভাগ আস্থা রাখেন:
“যখন আপনার পুরো রেফারিং ক্যারিয়ারের মূল্যায়ন একটি মাত্র ম্যাচের ওপর এসে দাঁড়ায়, তখন দায়ের বোঝা অনেক বেড়ে যায়। তবে ম্যাচের পর আমাদের সিদ্ধান্তগুলো বিতর্ক তৈরি করেনি—এটিই প্রমাণ করে যে আমাদের পরিকল্পনা ও পরিচালনা কৌশল একদম সঠিক ছিল।”

