ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চে ৭ গোলের এক রুদ্ধশ্বাস ও মহানাটকীয় থ্রিলারে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আন্দোনি ইরাওলার শিষ্যরা। অলরেডদের এই স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ১৮ বছর বয়সী উদীয়মান ফরোয়ার্ড রিও এনগুমোহা।
গোল না করলেও এনগুমোহার গতি, নিখুঁত চিপ পাস ও দুর্দান্ত ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চুরমার করে দেয়, অন্যদিকে জোড়া গোল ও আক্রমণাত্মক নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন ম্যাক অ্যালিস্টার।
ভিয়ারিয়ালের আর্লি লিড ও লিভারপুলের রক্ষণাত্মক ভুল: স্কোয়াডে ছয়টি পরিবর্তন এনে মূল একাদশ সাজান লিভারপুল কোচ ইরাওলা। ম্যাচের শুরুতেই অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক ও গোলরক্ষক অ্যালিসনের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে জর্জেস মিকাউতাদজে ভিয়ারিয়ালকে এগিয়ে নেন। এর কিছুক্ষণ পর নাথান সালিবার পাসে সের্হি কার্দোনা গোল করলে আধা ঘণ্টার মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে অলরেডরা।
ম্যাক অ্যালিস্টার ও আরাউহোর ঘুরে দাঁড়ানো: ৩৬ মিনিটে সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ম্যাক অ্যালিস্টার। বিরতির ঠিক আগে এনগুমোহার চোখধাঁধানো চিপে পা ছুঁইয়ে গোল করেন রোনাল্ড আরাউহো, ফলে ২-২ সমতায় বিরতিতে যায় লিভারপুল।
এনগুমোহার ড্রিবলিং ও লিভারপুলের দাপট: দ্বিতীয়ার্ধে কার্দোনাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে এনগুমোহার বাড়ানো বলে ফাঁকা জালে বল পাঠান ম্যাক অ্যালিস্টার (৩-২)। এরপর বদলি হিসেবে নামা ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস বাঁ পায়ের মাপা ফিনিশিংয়ে লিভারপুলের হয়ে নিজের প্রথম গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন।
ভিয়ারিয়ালের শেষ লড়াই: ম্যাচের শেষভাগে তানি ওলুওয়াসেই ভিয়ারিয়ালের হয়ে এক গোল শোধ করে (৪-৩) উত্তেজনা বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে অলরেডরা।

