জিম্বাবুয়ের দুই পেসার রিচার্ড এনগারাভা এবং ব্লেসিং মুজারাবানির দুর্দান্ত বোলিং তোপে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারের মুখ দেখল বাংলাদেশ। গত বুধবার বুলাওয়েওর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগারদের ৩২ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
জিম্বাবুয়ে সফরের হতাশা যেন কিছুতেই কাটছে না বাংলাদেশের। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হারের পর এবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও পরাজয় দিয়ে শুরু করল সফরকারীরা। গত বুধবার বুলাওয়েওর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানির বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে ৩২ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯ ওভারে মাত্র ১৩৮ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস।
১৭১ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লে-র মধ্যেই মাত্র ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় দল। বিদায় নেন সাইফ হাসান (১২), তানজিদ হাসান তামিম (১৬) ও পারভেজ হোসেন ইমন (৫)।
চতুর্থ উইকেটে ৩৯ রান যোগ করে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও দীর্ঘ দিন পর দলে ফেরা ইয়াসির আলি চৌধুরী। তবে হৃদয় ১৪ রান করে আউট হওয়ার পর নুরুল হাসান সোহান (৩) দ্রুত রানআউট হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
২০২৩ সালের পর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে একা লড়াই করেন ইয়াসির আলি। শেখ মেহেদী হাসানকে (১৯) সাথে নিয়ে ৫২ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের হাল ধরেন তিনি। এই ডানহাতি ব্যাটার খেলেন ৩৮ বলে ৫৪ রানের একটি ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস (২টি চার ও ৩টি ছক্কা)। কিন্তু ইয়াসির ও মেহেদী বিদায় নেওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সফরকারীদের লোয়ার অর্ডার; মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে শেষ ৫টি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পক্ষে এনগারাভা ২৬ রানে ৪টি এবং মুজারাবানি ১৭ রানে ৪টি উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়েকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন ব্রায়ান বেনেট। ৩০ বলে ৪৪ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া সিকান্দার রাজা ও ডিওন মায়ার্স—উভয়েই ২০ রান করে অবদান রাখেন।
মাঝের ওভারে বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা দুর্দান্ত বোলিং করে জিম্বাবুয়েকে চেপে ধরেন। ২৬ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করে নিজের ক্যারিয়ারসেরা টি-টোয়েন্টি স্পেল করেন রানা। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৩৫ রানে ২টি উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৮তম ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৯ রানে ৬ উইকেট।
তবে শেষ ১৫ বলে বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ কেড়ে নেন রায়ান বার্ল ও ব্র্যাড ইভান্স। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৩১ রানের ক্যামিও জুটিতে ভর করে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়। বার্ল ৩০ রানে এবং ইভান্স ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

