পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সিমনকে খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। ৭ ম্যাচে ক্লিনশিট ধরে রাখার পেছনে তাঁর নিজস্ব দক্ষতার চেয়ে স্প্যানিশ রক্ষণের অবদানই ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো সিমন পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই সাহসিকতার সাথে নসাৎ করে দিয়েছেন স্প্যানিশ রক্ষণের সেনানিরা। পুরো টুর্নামেন্টে সিমনের সেভ সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। সংখ্যাটি যে কতটা বিস্ময়কর, তা ফাইনালের আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে; যেখানে মার্তিনেজ এক ফাইনাল ম্যাচেই একা সেভ করেছেন ১১টি!
তবে আধুনিক ফুটবলে গোলকিপিং মানে কেবল চোখধাঁধানো সেভ নয়; সঠিক পজিশনিং ও নিচ থেকে বলের বিশ্বস্ত জোগান দেওয়াও তার বড় অংশ। সব মিলিয়ে ৭টি ক্লিনশিটের সুবাদে বিশ্বসেরা গোলরক্ষকের ট্রফি জয় করেন সিমন। পুরস্কার হাতে নিয়ে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের এই গোলকিপার সহাস্যে বলেন:
“আমার মনে হয় এই গ্লাভসগুলো কেবল ফাইনালেই কিছুটা ব্যবহৃত হয়েছে। আমি এই বিশ্বকাপে যেসব গ্লাভস পরে খেলেছি, সেগুলো যদি আজ কথা বলতে পারত, তবে নিশ্চয়ই বলত—পুরো টুর্নামেন্টে তাদের খুব বেশি খাটাখাটুনি করতে হয়নি!”
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম গোল হজম করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অবিশ্বাস্য রেকর্ডটি এখন স্পেনের দখলে। সিমন মনে করেন, ভবিষ্যতে যেকোনো দলের জন্যই এই রেকর্ডে ভাগ বসানো প্রায় অসম্ভব হবে। রক্ষণে তাঁর ঠিক সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তরুন সেন্টারব্যাক পাও কুবারসিও জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
এমন গৌরবময় অর্জনের পুরো কৃতিত্ব পুরো স্কোয়াডকে দিয়ে সিমন আরও বলেন, “আমি এটাকে মোটেও কোনো ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখি না। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল হজম করার এই অসাধারণ রেকর্ডটি গড়ার পেছনের মূল কারিগর আমার সতীর্থরা। প্রতিটি সতীর্থের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।”
বিশ্বজয়ের এই স্বর্গীয় অনুভূতি ব্যক্ত করে সিমন যোগ করেন, “আমার মনে হয় আমরা যখন স্পেনে ফিরে যাব, তখনই কেবল অনুধাবন করতে পারব আমরা ঠিক কতটা অবিশ্বাস্য অর্জন করেছি। খেলার দুনিয়ায় বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। আপনি এটাকে ইউরো কিংবা নেশনস লিগের সমতুল্য বলতে পারবেন না। বিশ্বকাপ জয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অনুভূতির নাম।”

