দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষা আর হতাশা কাটিয়ে অবশেষে বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ৮ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাবর আজমের দল। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর দেশের বাইরে এটিই পাকিস্তানের প্রথম লাল বলের জয়।
ত্রিনিদাদে ম্যাচের চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭৫ রান, যা সহজেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানকে পর পর দুটি দৃষ্টিদান্দনিক ছক্কায় উড়িয়ে পাকিস্তান দলের জয় সুনিশ্চিত করেন অধিনায়ক বাবর আজম নিজেই। এই স্বস্তিদায়ক জয়ের সুবাদে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান।
ম্যাচে বাবর আজমের একটি সাহসী সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দারুণ ফর্মে থাকা অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাসকে একাদশের বাইরে রেখে বাড়তি স্পিনার খেলানোর যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, তা শতভাগ কার্যকর প্রমাণিত হয়। প্রথম ইনিংসে আবদুল্লাহ শফিকের দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন পাকিস্তানের দুই স্পিনার আলি উসমান ও সাজিদ খান। দুজনেই ভাগাভাগি করে নেন ৪টি করে উইকেট।
অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, “জয় পেলে অবশ্যই সন্তুষ্টি আসে। তবে আমাদের মূল সাফল্য ছিল মাঠের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়নে। আবদুল্লাহর দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনারদের সুনির্দিষ্ট বোলিংই ম্যাচের পার্থক্য গড়িয়ে দিয়েছে। উইকেট দেখার পর পাকিস্তানের কন্ডিশনের কথা মনে হওয়ায় অতিরিক্ত স্পিনার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যদিও এর জন্য অভিজ্ঞ কয়েকজনকে বাইরে রাখতে হয়েছে।”
সিরিজের বড় চমক ছিলেন আবদুল্লাহ শফিক, যিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন। চোট পেয়ে প্রথম টেস্টের আগে আবদুল্লাহ ফজল ছিটকে না গেলে দলে সুযোগই পেতেন না শফিক। তবে শেষ মুহূর্তের সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে জয়ে পৌঁছে দেন তিনি।
নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে শফিক বলেন, “আমার কাছে এটিকে অভিষেক ম্যাচের মতোই মনে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাচ খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ পাইনি। তবে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মানসিকভাবে প্রস্তুত থেকে সেরাটা দেওয়াই ছিল আমার লক্ষ্য।”
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সিরিজ সমতায় শেষ করে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান দল এবার পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টের জন্য ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। সেখানে আগামী ১৯ আগস্ট হেডিংলিতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন ম্যাচের হাইভোল্টেজ টেস্ট সিরিজ।

