আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও রোমাঞ্চকর এক ম্যাচের সাক্ষী হলো ক্রীড়াবিশ্ব। রাওয়ালপিন্ডিতে আয়োজিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ডের গড়া ৪২৯ রানের বিশাল পর্বতসম লক্ষ্য ১ বল ও ২ উইকেট হাতে রেখেই ডিঙিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। ৪৩০ রান তাড়া করে এই জয়টি ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড।
এর আগে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে ব্যাট হাতে তোলপাড় সৃষ্টি করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। মাত্র ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করে শুভমান গিলের দ্রুততম ওয়ানডে দ্বিশতকের রেকর্ড ভেঙে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১৬ বলে ২২টি চার ও ৯টি ছক্কায় ২০২ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন ব্রুক। সঙ্গে জো রুটের ৬৯ ও উইল জ্যাকসের ৬৬ রানের সৌজন্যে ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে ৪২৯ রান তোলে।
শুরুতেই ধাক্কা ও লঙ্কানদের ঘুরে দাঁড়ানো: ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৪ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। তবে আভিষ্কা ফার্নান্দোর সেঞ্চুরি-ছোঁয়া ৯৭ রান এবং দাসুন শানাকার দায়িত্বশীল ৯৭ রানের জোড়া ইনিংসে ম্যাচে ফেরে লঙ্কানরা।
পাভান রত্নায়েকের মূল ভিত্তি: ৪ নম্বর পজিশনে ব্যাট হাতে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখে মহাকাব্যিক ১৩০ রানের ইনিংস খেলেন পাভান রত্নায়েকে। তাঁর এই অসাধারণ সেঞ্চুরিই শ্রীলঙ্কাকে জয়ের স্বপ্ন দেখায়।
জেনিথ লিয়াঙ্গের বিধ্বংসী ফিনিশিং: শেষ দিকে জয়ের জন্য যখন অসম্ভব আস্কিং রেট, তখন ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেন জেনিথ লিয়াঙ্গে। মাত্র ২৭ বলে ৬১ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে ১ বল বাকি থাকতেই ২ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
রেকর্ডের খাতা: ওয়ানডে ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রানের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৩৮ রান তাড়া করে জয় ছিল সর্বোচ্চ।

