বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর চিন্তা মাথায় এলেও শেষ পর্যন্ত থামছেন না পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সেও মাঠের সবুজ গালিচায় নতুন ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে আছেন সিআরসেভেন। জাতীয় দলের নতুন কোচ হোর্হে জেসুস ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসার সঙ্গে আলোচনার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে পথচলা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। তাঁর এখন মূল লক্ষ্য ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১,০০০ গোলের অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করা।
পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ২৩৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা রোনালদো এখন ক্যারিয়ারের ১,০০০তম গোলের থেকে মাত্র ২১টি গোল দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে এই রেকর্ড স্পর্শ করাকে তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ‘কেকের ওপর চেরি’ (Cherry on top) হিসেবে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে নেশন্স লিগের ম্যাচে ঘরের মাঠে ওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে লিসবনের হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে—যেটি স্পোর্তিং সিবির হয়ে রোনালদোর শৈশব ও ফুটবলের উত্থানের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। দীর্ঘ সময় পর সেই স্মৃতিময় মাঠে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করতে পেরে বেশ আবেগাপ্লুত সিআরসেভেন।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর অবসর ভাবনার কথা স্বীকার করে রোনালদো বলেন, “আমি চিন্তাশীল মানুষ, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবেছি। কিন্তু আমি এখনও বিশ্বাস করি মাঠ ও মাঠের বাইরে দলকে দেওয়ার অনেক কিছু আমার বাকি আছে। যেদিন ফেডারেশন বলবে তারা আমাকে চায় না, সেদিনই আমি ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাব।”
আল-নাসরের পর পর্তুগাল জাতীয় দলেও রোনালদোর দায়িত্ব পাওয়া নতুন কোচ হোর্হে জেসুস নিশ্চিত করেছেন, ওয়েলসের বিপক্ষে একাদশে অধিনায়ক হিসেবেই থাকবেন রোনালদো। জেসুস রোনালদোকে “পর্তুগালের জাতীয় প্রতীক” হিসেবে আখ্যা দেন। মিডিয়ার দীর্ঘদিনের সমালোচনা উড়িয়ে রোনালদো রসিকতার ছলে মন্তব্য করেন, “আমাকে টিভি চ্যানেলে বন্দুক দিয়ে মারার চেষ্টা করা হলেও আমি এখনও টিকে আছি এবং মাঠে লড়াই করে যাচ্ছি।”

