বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্তালে যখন রেফারি অন্তিম বাঁশি বাজালেন, তখন বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে বেজে উঠেছিল এক আবেগঘন সুর। বেনিনের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ শেষে ঘরের মাঠে গ্যালারিভর্তি ভক্তদের গর্জনে ভেসে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল আন্দ্রেস মেসি জাতীয় দল আর্জেন্টিনা ও আকাশি-সাদা জার্সিকে চিরতরে বিদায় জানালেন।
দুই দশকের দীর্ঘ, বর্ণাঢ্য ও ইতিহাস সৃষ্টিকারী আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে বিশ্ব ফুটবলের সবুজ গালিচাকে চিরদিনের জন্য এক অলৌকিক অধ্যায়ের সমাপ্তি উপহার দিলেন এই আর্জেন্টাইন ফুটবলের জাদুকর।
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার মহাকাব্যিক মুহূর্তসমূহ:
মনুমেন্তালে ১০০ মিনিটের শেষ জাদু: ডাবলিন থেকে ওয়েলিংটন, কিংবা জোহানেসবার্গ থেকে টোকিও—বিশ্বের সব প্রান্তের ফুটবল অনুরাগীদের দৃষ্টি ছিল বুয়েনস আইরেসে। বেনিনের বিপক্ষে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় অশ্রুসিক্ত চোখে মেসিকে বিদায়ী সুর স্পর্শ করেছিল।
অশ্রু থেকে সর্বজয়ী অধিনায়ক: ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালের হৃদয়ভাঙা হারের পর অবসর ঘোষণা ও পরবর্তীতে সারা বিশ্বের কোটি ভক্তের আকুল আবেদনে ‘ভূমিপুত্র’ মেসির জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন—আজ ফুটবলের চিত্রনাট্যের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস। যেসব ফাইনালে হেরে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন, পরবর্তীতে অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড পরে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মুকুট ‘লুসাইল ট্র্যাজেডি ভেঙে ২০২৩ বিশ্বজয়ের’ মাধ্যমে তার সবকটিই অর্জন করেন।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের রেকর্ডপুঞ্জ: আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে বয়সভিত্তিক ও মূল দল মিলিয়ে ২০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ১২৬টি গোল ও অজস্র অ্যাসিস্টের মহাকাব্যিক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। এর পাশাপাশি রয়েছে অলিম্পিক স্বর্ণ ও অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ।
ক্লাব ফুটবলে উপস্থিতি: আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির জার্সিতে আরও কিছুদিন দেখা যাবে এই মহাতারকাকে।

