টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নিজেদের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য অব্যাহত রাখল ইংল্যান্ড। ওপেনার টম ব্যান্টনের বিধ্বংসী ফিফটি এবং অধিনায়ক লিয়াম ডসনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সফরকারী শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা ১৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ল ইংলিশরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর থেকে টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডকে আর হারাতে পারেনি লঙ্কানরা।
ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। জবাবে মাত্র ১২.১ ওভারে (৪৭ বল বাকি থাকতেই) ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
শ্রীলঙ্কার বোলিং কোচ রায়ান ভ্যান নিয়েকার্ক জানান, ব্যাটিং বান্ধব এই উইকেটে ২০০ রান খুব স্বাভাবিক সংগ্রহ হতে পারত। তবে প্রথম ৫ ওভারে লাহিরু উদারা ও পথুম নিসাঙ্কার ব্যাটে ৫৫ রান তোলার পরও মাঝের ওভারে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান ইংলিশ স্পিনার লিয়াম ডসন। শেষ ১৫ ওভারে মাত্র ৯০ রান যোগ করতে বাকি ৯টি উইকেট হারায় অতিথি দলটি। শেষ চার ওভারে তারা তুলতে পেরেছে মাত্র ১২ রান, বিপরীতে হারিয়েছে চার উইকেট। তরুণ পেসার সনি বেকারও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন।
১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডও ৫ ওভারেই তোলে ৫৫ রান। অধিনায়ক জস বাটলার ১৬ বলে ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলার পথে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথম ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে ১৫,০০০ রানের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন। এরপর হ্যারি ব্রুক ওয়ানিদু হাসারাঙ্গার এক ওভারেই ৩টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে রান রেট তুঙ্গে নিয়ে যান।
তবে ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন টম ব্যান্টন। শ্রীলঙ্কার পুরো ইনিংসে যেখানে মাত্র ২টি ছক্কা এসেছিল, সেখানে ব্যান্টন একাই মারেন একাধিক ছক্কা। মাত্র ৩১ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৫ম এবং ব্যক্তিগত দ্রুততম ফিফটি পূর্ণ করে দলকে জয়ের বন্দরে নোঙর করান তিনি।

