সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল। সবাই যখন প্রস্তুত, ঠিক তখনই পরিবেশটাকে পুরো বদলে দিলেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উপস্থিত সাংবাদিকদের দিকেই উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আমার একটা প্রশ্ন আছে সবার কাছে। আপনারা অনেক বছর ধরে ক্রিকেটটা কাভার করেন, এই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আপনারা কী প্রত্যাশা করছেন, দল কেমন করবে?’
উপস্থিত একজন সাংবাদিক উত্তর দিলেন, ‘ভালো খেলা’। শান্তর ঝটপট পাল্টা জিজ্ঞাসা, ‘এই উত্তর আমি দিলে কি আপনারা খুশি হতেন?’ আরেকজন সাংবাদিক যখন বললেন—প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন যেমনটা বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘সম্মান অর্জন’ করে ফেরা—তখন হয়তো শান্তর পছন্দের উত্তর মিলল।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার এই সুযোগ বাংলাদেশ দলের কাছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বশেষ ২০০৩ সালে যখন বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিল, তখন বর্তমান অধিনায়ক শান্ত মাত্র চার বছরের শিশু!
বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের ক্রিকেটারদের পুরো ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো টেস্ট না খেলেই। সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবালদের মতো ক্রিকেট তারকাদের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশের ‘সোনালী প্রজন্ম’ও তাদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়ায় লাল বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায়নি।
এমন প্রেক্ষাপটে সিরিজ ঘিরে বড় কোনো ফলের প্রত্যাশা করা খানিকটা অবাস্তব শোনানোই স্বাভাবিক। শান্তও হয়তো সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বাস্তবতার নিরিখে প্রত্যাশার পারদটা নিচে নামিয়ে রাখতে চেয়েছেন। ম্যাচের ফল যা-ই হোক না কেন, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তির বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে সমীহ ও সম্মান আদায় করে নেওয়াই এখন অধিনায়কের মূল লক্ষ্য।
অবশ্য সিরিজের ফল নিয়ে একটু জোর দিয়ে কথা বলার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত, যদি না দল চোটের কবলে পড়ত। অস্ট্রেলিয়ার পেস সহায়ক কন্ডিশনে যিনি হতে পারতেন বাংলাদেশ পেস আক্রমণের প্রধান অস্ত্র, সেই গতিদানব নাহিদ রানাই চোটের কারণে স্কোয়াডে নেই।
নাহিদ রানা ছাড়াও সিরিজের প্রথম টেস্টে শরিফুল ইসলাম ও লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞ পারফরমারদের না থাকা বাংলাদেশ শিবিরের জন্য অনেক বড় এক ধাক্কা।
সাকিব-তামিমদের ক্যারিয়ারে যে অপূর্ণতা থেকে গিয়েছিল, শান্ত সেই অধ্যায়ে এক নতুন ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছেন। শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার এই বিরল সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন শান্ত।
অধিনায়ক শান্ত বলেন:
“আমি খুবই ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট খেলতে পারছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করা। যদি আমরা ওদের টাফ টাইম দিতে পারি, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাব।”

