অতিরিক্ত সময়ের চরম নাটকীয়তায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি নিজেদের করে নিয়েছে স্পেন। বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের করা একমাত্র জাদুকরী গোলে স্প্যানিশদের বিশ্বজয়ের রাতে ভেঙে চূর্ণ হয়ে গেছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসির রূপকথার মতো বিদায় নেওয়ার শেষ স্বপ্ন।
ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস এক বুলেট গতির শটে বল আলবিসেলেস্তেদের জালে জড়ালে পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করা স্পেনের যোগ্য পুরস্কার মেলে। বিপরীতে পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় স্পেনের রক্ষণভাগে ন্যূনতম কোনো পরীক্ষা নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা; পুরো ম্যাচে অন-টার্গেটে একটি শটও নিতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে (ইস্ট রাদারফোর্ড) উপস্থিত ৮০,৬৬৩ জন দর্শক ঠাসা গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্তের সাক্ষী হতে, যার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। সবার চোখ ছিল ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসির দিকে। কিন্তু স্পেনের দুর্দান্ত পাসিং ফুটবলের সামনে পুরো ম্যাচেই বোতলবন্দী হয়ে ছিলেন লিওনেল মেসি।
খেলার শুরু থেকেই স্পেনের চেনা তিকিতাকা ও গতিশীল ফুটবলকে রুখে দিতে অতিরিক্ত শারীরিক আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী কৌশল বেছে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুতেই অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মতো তারকারা স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের ওপর ফাউলের মহড়া চালান, যা বারবার স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনসিকের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছিল।
ম্যাচ যতই গড়াচ্ছিল, স্পেনের ট্যাকটিক্যাল শ্রেষ্ঠত্বের সামনে আর্জেন্টিনাকে তত বেশি রক্ষণাত্মক হতে হচ্ছিল। ম্যাচের যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) আর্জেন্টিনার এই মেজাজ হারানোর চূড়ান্ত রূপ দেখা যায়, যখন স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সিকে এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক ট্যাকল করায় মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয়েই অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে নামতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ক্যামেরা জুম করে লিওনেল মেসির ওপর। ক্যারিয়ারের সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের ট্র্যাজিক সমাপ্তিতে মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় ফুটবলের এই মহাজাদুকরকে। রানার্স-আপ মেডেল নেওয়ার সময়ও তার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল।
পরবর্তীতে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের অধিনায়ক ও মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রির হাতে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি তুলে দেন। ২০১০ সালের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।
ম্যাচ শেষে স্পেনের গর্বিত কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “আমরা সবকিছু জিতেছি এবং এটি সত্যিই অসাধারণ। এই ফুটবলারদের প্রজন্ম স্পেনের জন্য এক বিশাল গর্বের উৎস। আমরা প্রমাণ করেছি, একসাথে থাকলে আমরা আরও শক্তিশালী।”

