ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্ভাব্য সামরিক ও গোয়েন্দা হুমকির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ (B-1) বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, বিমানগুলো ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অবস্থান করলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। হুমকির নেপথ্যে তেহরানের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “তারা ইরানের সাথেই যুক্ত।”
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) ঘাঁটি থেকে পরমাণু ও দূরপাল্লার বিমান স্থানান্তরের পটভূমি ও শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া:
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির গুরুত্ব ও হামলা: সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে বিমান হামলায় ইউএস বিমানবাহিনীর এই বি-১ বোমারু বহর ব্যবহার করা হয়েছিল। সম্প্রতি ঘাঁটির ঠিক বাইরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
আইআরজিসি-র লক্ষ্যবস্তু ঘোষণা: ইতিপূর্বে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে তাদের ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে সতর্কবার্তা দিয়েছিল। ন্যাটোর সামরিক সূত্রগুলোও নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাজ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সম্পদের ওপর ইরানি হুমকি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
পেন্টাগন ও প্রশাসনের দ্বিমত: ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিমান সরানোর সিদ্ধান্তকে ‘অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এটি পেন্টাগনের নিয়মিত সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের অংশ এবং ষড়যন্ত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়।
তেহরানের প্রত্যাখ্যান: এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

