জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রতারণামূলক স্বয়ংক্রিয় ফোনকল (রোবোকল) দমনে চীনের প্রধান টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত এই পলিসির আওতায় মার্কিন ফোন নম্বর ও নেটওয়ার্কে চীনা কোম্পানিগুলোর সরাসরি প্রবেশাধিকার (Direct Access) বন্ধ করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
আগামী ১৯ নভেম্বর এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তাবটির অনুমোদনের জন্য এফসিসির (Federal Communications Commission) বোর্ডে ভোটাভুটির আয়োজন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এফসিসি নিশ্চিত করেছে যে চীনের তিন রাষ্ট্রীয় জায়ান্ট—চায়না মোবাইল, চায়না টেলিকম ও চায়না ইউনিকম এবং অন্যান্য ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি ডাইরেক্ট এক্সেস রুট বন্ধে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার জানান, ডাইরেক্ট এক্সেসের মাধ্যমে সংবেদনশীল যোগাযোগ ডেটা চুরি ও অবৈধ কল রুটিং সহজ হচ্ছিল। এই পদক্ষেপ অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া হুয়াওয়ে (Huawei) ও জেডটিই (ZTE)-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির যন্ত্রপাতি ব্যবহারকারী সাব-কন্ট্রাক্টরদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ এবং ২০২৮ সালের মধ্যে মার্কিন ইলেকট্রনিক পণ্য পরীক্ষার কাজে চীনের সব পরীক্ষাগার (Testing Labs) নিষিদ্ধের পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতি-সম্প্রসারিত করছে এবং চীনা ব্যবসা দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।” চীন নিজেদের বৈধ অধিকার সুরক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা এফবিআই সতর্ক করেছে যে, চীন-ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় হ্যাকিং গ্রুপ ‘সল্ট টাইফুন’ মার্কিন টেলিকম অবকাঠামোয় অনুপ্রবেশ করে ফোনকল রেকর্ড ও তথ্য চুরি করেছে, যার সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো অব্যাহত।

