ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট কিংবা বিরোধী শিবির—কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ৮৮.৬২ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে (Knesset) চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রেকর্ড ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিলেও বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
একদিকে সরকার গঠনের জটিল অংক, অন্যদিকে জেরুজালেম, তেল আবিব ও হাইফায় ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ নাগরিকরা।
প্রকাশিত আংশিক ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ঐতিহাসিক ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের প্রয়োজন। এখনও সেনাসদস্য, কূটনীতিক ও বন্দিদের ‘দ্বিস্তর খাম’ (Double Envelope) ভোট গণনা বাকি রয়েছে।
আরব জোটের সমর্থন নিয়ে বিরোধী শিবিরে দ্বিধা:
বামপন্থী ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’ প্রধান ইয়াইর গোলান প্রকাশ্যে আরব দলগুলোর সাথে জোট বাঁধার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা ও তরুণদের আস্থা ফেরাতে এটিই শেষ সুযোগ। জয়েন্ট লিস্ট নেতা ইউসেফ জাবারিন ও আহমাদ তিবিও রক্তপাতের রাজনীতি বন্ধে বিকল্প সরকার গঠনে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বিরোধী জোটের প্রভাবশালী নেতা নাফতালি বেনেট, আভিগদর লিবারম্যান ও খোদ গাদি আইজেনকোট নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সমর্থনের বিরোধিতা করেছিলেন। তারা অবস্থান পরিবর্তন করবেন কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ।
জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ার, তেল আবিবের মেসিলা পার্ক এবং হাইফার ইউনেসকো স্কয়ারে প্রায় ৩০০ আন্দোলনকারী বিক্ষোভ করেছেন। “নদী থেকে সাগর পর্যন্ত সবার স্বাধীনতা” এবং “ইহুদি-আরব সরকার চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে তারা বৈষম্যমুক্ত নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের দাবি জানান।

