লোহিত সাগরে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ রুট নিরাপদ রাখতে সৌদি আরবের দেওয়া বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, বাংলাদেশ, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, সুদান, জিবুতি এবং সোমালিয়া।
উপসাগরীয় ছয়টি আরব দেশের মধ্যে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনও এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে ওয়াশিংটন এই জোটে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রয়টার্স নিশ্চিত করেছে, ইয়েমেনের হুতিদের হুমকির মুখে গত বৃহস্পতিবার ৪৩টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে সৌদি আরব। সেখানে ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ (Multinational Maritime Defence Coalition) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মূল লক্ষ্য: বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ পথের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
কেন্দ্রীয় দপ্তর: যৌথ এই জোটের নেতৃত্ব দেবে সৌদি আরব এবং এর স্থায়ী সদর দপ্তর, যৌথ কমান্ড ও অপারেশনস সেন্টার দেশটিতেই স্থাপিত হবে।
সদস্যপদ সম্প্রসারণ: সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা থাকবে।
গত ২০ জুলাই হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয় এবং সৌদি-সংযুক্ত একাধিক জাহাজে হামলা চালায়। এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনের হুদাইদাহয় হুতিদের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন রুট বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হয়। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিস্তৃত যুদ্ধের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: বার্তা সংস্থা আল জাজিরা জানিয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন।
সৌদি বক্তব্য: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ যেন আর না বাড়ে, সৌদি আরব সেই পক্ষেই রয়েছে। তবে নিজেদের আত্মরক্ষা করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং ইয়েমেনে হুতি হুমকি মোকাবেলায় সৌদি আরব নিজেরাই যথেষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

