ভারতের সরকারি চাকরির নিয়োগ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর নতুন আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, প্রস্তাবিত আইনের একটি খসড়া তিনি ইতোমধ্যে হাতে পেয়েছেন এবং আজ শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হবে।
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও বিচার নিষ্পত্তিতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের আশ্বাস দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় জাতির উদ্দেশে এই ভিডিও বার্তা নিয়ে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তবে বিচার ত্বরান্বিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনরত রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। মোদির বার্তার পরপরই দলটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সার্বিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।
‘প্রশ্ন ফাঁস ছোটখাটো বিষয় নয়’—শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে মোদি
ভিডিও বার্তায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন:
“প্রিয় বন্ধুগণ, আমি খুব ভালো করেই বুঝি যে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বা ছোটখাটো ঘটনা নয়। এমন অপরাধ লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দেয়। এ কারণেই গত আড়াই মাসে আমরা একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। অপরাধে জড়িত মূল চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাবন্দী।”
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিরলস কাজ করে একটি খসড়া নীতি প্রস্তাব তাঁর কাছে জমা দিয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবনায় দ্রুত বিচার আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনসহ অপরাধীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের মতামত নিয়ে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পার্লামেন্টে পেশ ও পাস করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

