দীর্ঘদিনের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সাধারণ ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অনাগ্রহ সত্ত্বেও অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন (রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬)। দুই মেরুর দুই পরিচিত রাজনৈতিক শক্তি—বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো (কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে)—এর মধ্যে লড়াইটি লাতিন আমেরিকার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও কৌশলগত অভিমুখ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় ভোট দ্বিতীয় দফায় (২৫ অক্টোবর ২০২৬) গড়ানোর শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রাজিলের এই নির্বাচন কেবল অভ্যন্তরীণ শাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে ব্রিকস (BRICS) ও আমেরিকার ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখছে:
পররাষ্ট্রনীতি ও ট্রাম্প শুল্কনীতির সংঘাত: ৮০ বছর বয়সী লুলা চীনের সঙ্গে কৌশলগত বাণিজ্য জোরদার এবং বহুপক্ষীয় পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক এবং মার্কিন হস্তক্ষেপকে লুলা ‘ব্রাজিল কারও পেছনের উঠান নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিপরীত দিকে, ফ্লাভিও বলসোনারো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সরাসরি সমর্থন পেয়ে রক্ষণশীল জোট গঠনের চেষ্টা করছেন।
অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা বিতর্ক: অপরাধ মোকাবিলায় ফ্লাভিও বলসোনারো বড় অপরাধী চক্রগুলোকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা, নতুন ফেডারেল কারাগার নির্মাণ এবং বিচারের বয়স ১৬ বছরে নামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অপরদিকে, লুলার সরকার বিষয়টিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে বলে বিরোধিতা করেছে।
ব্যাংক মাস্টার কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির ক্লান্তি: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রায়ান উইন্টার এই পরিস্থিতিকে ‘উদাসীন মেরুকরণ’ (Apathetic Polarization) বলে অভিহিত করেছেন। সাম্প্রতিক ‘ব্যাংক মাস্টার’ ব্যাংকিং কেলেঙ্কারি ও মোরায়েস-ভোরকারো তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও বলসোনারো পরিবারের অর্থপাচারের তথ্য উঠে আসায় কোনো রাজনৈতিক শিবিরই এককভাবে দুর্নীতির সুবিধা নিতে পারছে না, বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিই মানুষের অনাস্থা বাড়ছে।

