সপ্তাহান্তে ফ্রান্সে তীব্র দাঙ্গা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনার পর রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন বড় শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিবিসি এ খবর নিশ্চিত করেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকেই এই কঠোর সান্ধ্য আইন কার্যকর করা হয়।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের নজিরবিহীন বিক্ষোভের পর এই সিদ্ধান্ত এল।
রফিউর ব্যাপ্তি ও এলাকা: প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। এছাড়া মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিয়োঁ ও লিলের মতো বড় শহরগুলোতেও আংশিক কারফিউ ও তরুণদের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সহিংসতা ও গ্রেপ্তারের চিত্র: দেশজুড়ে চলা দাঙ্গা ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপের সময় এক বিক্ষোভকারীর হাতে গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়ে তার হাত উড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সংঘাতে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও আর্থিক সহায়তা: ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে শহরের মেয়রেরা প্রয়োজন অনুযায়ী কারফিউ জারি করতে পারবেন। দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরকার তহবিল দেবে, তবে সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সেই ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে। পাশাপাশি, দাঙ্গার কারণে যাঁরা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না, তাঁদের জন্যও বিশেষ আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিক্ষোভের মূল কারণ: মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির চড়া দাম এবং স্কুলসহ রাষ্ট্রীয় সেবার মান হ্রাসের প্রতিবাদে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু এলাকায় দাঙ্গাকারীরা গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগ এবং দোকানপাটে বড় ধরনের লুটপাট চালায়।

