শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবিতে ফ্রান্সে গড়ে ওঠা উচ্চবিদ্যালয় বা হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী আন্দোলন দমনে পুলিশের ব্যাপক বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ ও গ্রেনেড ব্যবহারে মারাত্মক অঙ্গহানির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। আগামী মে মাসে মেয়াদ শেষে ক্ষমতা ছাড়তে যাওয়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মেয়াদের শেষ মাসগুলো এই নজিরবিহীন শিক্ষার্থী বিক্ষোভ, সংঘাত ও গণআটকের মুখে চরম অস্থিরতায় পর্যবসিত হয়েছে।
ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে ফরাসি সরকার। পুলিশি তণ্ডবে একের পর এক কিশোর শিক্ষার্থী পঙ্গুত্ব বরণ করায় ম্যাক্রোঁ প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ তুঙ্গে পৌঁছেছে।
৮ হাজার শিক্ষার্থী আটক ও সংঘাতের চিত্র: দরিদ্র ও অবহেলিত এলাকার স্কুলের উন্নয়ন এবং বাজেট বাড়ানোর দাবিতে কিশোর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলেও তা দমনে কঠোর রূপ নেয় পুলিশ। এতে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের সিংহভাগই ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী। সংঘর্ষে ৯০০-র বেশি পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ১৫০ জন শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তা আহত হন।
রায়ট প্রজেক্টাইল ও অঙ্গহানির বীভৎসতা: ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানান, বিক্ষোভ দমনে ১৮ হাজারেরও বেশি বার টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও রায়ট-কন্ট্রোল প্রজেক্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে। সংঘর্ষে একটি স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং রাবার বুলেটে ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোরের চোখ আংশিক অন্ধ হয়ে যায়। পুলিশি নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩৬টি পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ ইউনিয়নের মামলা ও ক্ষোভ: ফরাসি সরকারের ওপর কেবল সাধারণ মানুষ বা শিক্ষার্থীরাই ক্ষুব্ধ নন, খোদ প্যারিসের প্রভাবশালী পুলিশ ইউনিয়ন ‘অ্যালায়েন্স’ জীবনের ঝুঁকি ও অপ্রশিক্ষিত সদস্যদের প্রটেকটিভ গিয়ার ছাড়া মাঠে পাঠানোর অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে।
ম্যাক্রোঁ সরকারের দ্বিমুখী নীতি: গবেষকদের মতে, এর আগে প্রভাবশালী প্রাপ্তবয়স্ক কৃষক আন্দোলনকারীরা প্যারিসের সড়কে আগুন জ্বালালেও নমনীয় ছিল পুলিশ; কিন্তু বাজেট সংকটে থাকা কোমলমতি স্কুলের কিশোর শিক্ষার্থীদের ওপর চরম বর্বরতা চালিয়ে সরকার তার দ্বিমুখী ও দমনমূলক চেহারা প্রকাশ করেছে।

