মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্রতর হওয়া এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যানুযায়ী, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববাজারের অন্যতম প্রধান বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম আন্তর্জাতিক লেনদেনের একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়—যা গত জুলাই মাসের পর সর্বোচ্চ। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (সেন্টকম) ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের পর ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জবাবে ইরান জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা ছাড়াও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌযান ও বাণিজ্যিক জ্বালানিবাহী জাহাজে আক্রমণের দাবি করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) পরিবহনকারী এই জলপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাজারের স্থিতিশীলতা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
একই সাথে সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি তেল সরবরাহকেন্দ্রে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মার্কিন জলযান স্পর্শ করা হলে ইরানি ট্যাংকারগুলোর ওপর আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক পেট্রোল ও প্রাথমিক জ্বালানির বাজার দীর্ঘমেয়াদে চরম অস্থিরতায় পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

