জীবনের পরম আকাঙ্ক্ষিত কৈলাশ মানসরোবর তীর্থযাত্রায় গিয়ে নেপাল-তিব্বত (চীন) সীমান্তে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী। নেপাল সরকারের প্রকাশিত সামগ্রিক তালিকায় দুর্যোগে নিখোঁজের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩৭ জনে।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার ৪৩ বছর বয়সী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শুভ্রশ্রী চক্রবর্তী এবং ৫৪ বছর বয়সী গৃহশিক্ষিকা রীনা ব্যানার্জি। গত ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে ৩০ জনের একটি দলের সাথে রওয়ানা দিয়েছিলেন শুভ্রশ্রী। কাঠমান্ডু হয়ে ২৫ আগস্ট তারা নেপাল-চীন সীমান্তের প্রবেশদ্বার স্যামব্রুবেশিতে পৌঁছান।
বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) সকাল ৭টা ৫৭ মিনিটে নেপাল ইমিগ্রেশনের ডিপার্চার সিলসহ পাসপোর্টের ছবি স্বামী সুদীপ্ত ভট্টাচার্যকে পাঠান শুভ্রশ্রী। এরপর ৮টা ৩ মিনিটে পাঠান শেষ বার্তা—”আমরা চীনে প্রবেশের অপেক্ষায় আছি।” ঠিক তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্ত এলাকায় প্রলয়ংকরী হড়পা বান ও ভূমিধস নামলে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই দলের সদস্য রীনা ব্যানার্জির পরিবারও চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে; তারা নেপাল অংশে নাকি চীনের গ্যিরং ইমিগ্রেশন পার হয়ে তিব্বতে ঢুকেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। ট্যুর অপারেটরদের ফোনেও সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।
পাহাড়ি ধসের কারণে টেলিকম নেটওয়ার্ক ও সড়ক পথ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সীমান্ত অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা এবং তথ্য সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবারগুলো চীন ও নেপাল সরকারের কাছে অবিলম্বে উদ্ধারকৃত, নিখোঁজ ও হতাহতদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

