আয়োজক দেশ ভারতে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির জোট ‘ব্রিকস’ (BRICS)-এর বহুল প্রতীক্ষিত ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। হাই-প্রোফাইল এই সম্মেলনকে ঘিরে স্বাগতিক দেশ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিকে নিরাপত্তার কঠোর চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতেই নয়াদিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এছাড়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানগণ ইতোমধ্যেই ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন।
বিশ্বমঞ্চে মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র সামরিক সংঘাত, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং মার্কিন অবরোধের পটভূমিতে এবারের শীর্ষ বৈঠককে ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার (ডি-ডলারাইজেশন) ব্যবহার বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর বিকল্প প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জোরদার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনই হতে যাচ্ছে এই সম্মেলনের মূল এজেন্ডা।
নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘ভারত মণ্ডপম’ ও আশপাশের এলাকাগুলোর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন ডেডিকেটেড কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখান থেকে ভিভিআইপি মোটরকেডের গতিবিধি ও নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরাসরি মনিটর করা হচ্ছে।
তবে পূর্বে ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ প্রটোকল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিংবা কোনো সরকারি প্রতিনিধিদল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।

