ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার উত্তর অঞ্চলের চোরবাগান এলাকার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে প্রতিমা দর্শনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তীব্র হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে অন্তত ২৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় সাড়ে আটটার দিকে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে। অতিরিক্ত জনস্রোত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ত্রুটির অভিযোগে চোরবাগান পূজা কমিটির সাত শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ।
দুর্ঘটনার সূত্রপাত: প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপ প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এর মধ্যে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পেছনের মানুষের প্রবল চাপের মুখে সামনের সারির নারী ও শিশুরা ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এই পদদলন ঘটে।
মামলা ও পূজা কমিটির গ্রেপ্তার: দায়িত্বে অবহেলা ও পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন (Emergency Exit) ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির কঠোর ধারায় (অনিচ্ছাকৃত খুন) মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) পুলিশ পূজা কমিটির সাতজন শীর্ষ কর্তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাতিল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সফরে থাকা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূজামণ্ডপের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেন। পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করে তিনি রোববার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে ছুটে যান এবং সার্বিক চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

