দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি যাত্রীবাহী বিমানে উড্ডয়নরত অবস্থায় ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলটের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও শারীরিক হাতাহাতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে উড্ডয়ন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় এবং ভুলবশত ‘হিজ্যাক’ অ্যালার্ট সংকেত চালু হয়ে যাওয়ায় বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে।
বুধবার সকালে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। ইসরায়েলি সরকারি কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সূত্রের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’ (Flightradar24)-এর তথ্য অনুযায়ী ঘটনাপ্রবাহ:
জরুরি বিপদের সংকেত: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি থেকে প্রথমে একটি সাধারণ জরুরি বিপদ সংকেত (Emergency Alert) পাঠানো হয়।
হাইজ্যাক কোড অ্যাক্টিভেশন: সংকেত পাঠানোর কয়েক মিনিটের মাথায় ককপিট থেকে হঠাৎ করেই বিমান ছিনতাই বা হাইজ্যাকিংয়ের জন্য নির্ধারিত বিশেষ স্কোয়াক কোড (Hijack Code) পাঠানো শুরু হয়। যদিও কিছুক্ষণ পর তা প্রত্যাহার করে পুনরায় সাধারণ জরুরি অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।
ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা: ছিনতাইয়ের কোড পাওয়ার পরপরই তেল আবিবে তীব্র নিরাপত্তা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে আকাশে সামরিক যুদ্ধবিমান পাঠায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। একই সাথে নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
পরবর্তীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা বা বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়।
“উড্ডয়নরত অবস্থায় ককপিটে মূল পাইলট ও সহ-পাইলটের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এই চরম উত্তেজনার মুখে ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত ছিনতাইয়ের অ্যালার্ট কোডটি চালু হয়ে গিয়েছিল। বিমানের প্রায় ১৫০ জন আরোহী (যাদের সিংহভাগই ইসরায়েলি নাগরিক) সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন।”
তেল আবিবের বেন-গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা থাকলেও নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে গতিপথ বদলে বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

