মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, একই দিনে ওমানে নির্ধারিত পারস্য উপসাগরীয় দেশ ও ইরানের মধ্যস্ততা বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হুতি বাহিনীর মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরব ইয়েমেনে পুনরায় বিমান হামলা চালানোর জবাবে তারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের একটি প্রধান সামরিক বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালায়। তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণাঞ্চলের আরও তিনটি কৌশলগত শহরে জরুরি সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
এর আগে, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনি ও ইরাকি যোদ্ধাদের সমন্বিত হামলায় সৌদি আরবের কৌশলগত ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ হয়ে যায়। সংঘাত নিরসন ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সোমবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে রিয়াদের বিশেষ অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে বলে তেহরান জানিয়েছে।
উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান দ্রুত একটি চুক্তি করতে ইচ্ছুক। তবে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরানের প্রাথমিক শর্তসমূহ পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমঝোতায় যাবে না ইরান।

