ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) সরাসরি ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্দলীয় গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সিবিও সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধ এভাবে চলতে থাকলে মার্কিন কোষাগার থেকে প্রতি মাসে আরও অন্তত ৩ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি অতিরিক্ত খরচ হতে থাকবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বার্তা সংস্থা এপির প্রকাশিত বরাতে সিবিও’র এই নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি সামনে আসে। সিবিও জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ আগস্ট পর্যন্ত এই যুদ্ধের সামরিক ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে এবং যুদ্ধের রূপ ও তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে এই খরচের মাত্রা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে।
সিবিও তাদের মূল্যায়নে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এই যুদ্ধ ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। এর ফলে পূর্বের ধারণার চেয়ে মার্কিন মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্যের দাম হু-হু করে বাড়ছে।
রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ব্রেন্ডন বয়েলের প্রাতিষ্ঠানিক অনুরোধে। এতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সিনেট শুনানিতে দেওয়া পূর্ববর্তী হিসাবের (৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার) সঙ্গে প্রত্যক্ষ মিল পাওয়া গেছে। সিবিও নিশ্চিত করেছে, এই খরচের সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে ব্যবহৃত উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় কিনে পেন্টাগনের মজুত পূর্ণ করতে। তবে এতে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাদের ক্ষতিপূরণ কিংবা ভবিষ্যতে সাবেক সেনাদের জন্য নির্ধারিত দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সংস্থার এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে এলো যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই ইরান যুদ্ধ সপ্তম মাসে পদার্পণ করেছে এবং দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন এই যুদ্ধ ও ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

