ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে এবার অত্যন্ত কড়া ভাষায় তীব্র প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সেনাবাহিনীর যৌথ শীর্ষ কমান্ড।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার মোহেবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানান, ওয়াশিংটনের নতুন হামলা ও উসকানির বিপরীতে মার্কিন বাহিনীকে কঠোর মাশুল গুণতে হবে। বার্তাটিতে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, “আমেরিকাকে তাদের নতুন এই হামলার জন্য অনুতপ্ত হতে হবে এবং আক্রমণকারীদের জন্য চরম ও বেদনাদায়ক শাস্তি অপেক্ষা করছে”।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-তে প্রকাশিত দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এবং খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে হুঁশিয়ার করে বলা হয়, মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে শিগগিরই ‘চূর্ণকারী ও বিধ্বংসী আঘাত’ হানা হবে। ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে যত বেশি আগ্রাসন চালাবে, তাদের ঘাঁটি ও সামরিক বহরকে তত বেশি ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব।
ইরানের এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি অঞ্চলের সাম্প্রতিক উত্তেজনা। পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) দাবি, প্রণালিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে মাইন স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সামরিক বহরের ওপর হামলার চেষ্টার জবাবেই আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং অন্যান্য অবকাঠামোগুলোতে সুনির্দিষ্ট সামরিক হামলা চালানো হয়েছে।

