ইরান যুদ্ধে কৌশলগত অবস্থানের বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার চেয়ে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য তেলের দাম কমিয়ে আনাই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান বা ‘এক নম্বর’ অগ্রাধিকার। আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের কথা জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় রাখাই বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ লক্ষ্য। আর ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা এখন তাদের ‘দ্বিতীয় লক্ষ্য’। একই সময়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শিগগিরই তেহরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক শাস্তি আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও দরকষাকষির টেবিলে ইরান বড় ধরনের সুবিধা অর্জন করেছে। বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ঘরোয়া রাজনীতিতে ব্যাকফুটে থাকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
তাছাড়া কয়েক মাসের যুদ্ধে বিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক অস্ত্রের মজুত কমে আসায় ট্রাম্পের সামনে সামরিক বিকল্পও সীমিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন বড় সামরিক অভিযানের চেয়ে বাণিজ্য অবরুদ্ধ করে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার নীতিতে হাঁটছে। তবে ইরানও সামরিক সংঘাত বন্ধ, অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মতো কঠোর শর্তে অনড় থাকায় এই সংকট নিরসনে হোয়াইট হাউস চরম রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

