ইউরোপ মহাদেশ একটি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং চলমান ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা জোট ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্লোভাক জাতীয় সংবাদ সংস্থা টিএএসআর (TASR)-এর বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করে।
স্লোভাকিয়ার প্রেসোভ (Prešov) শহরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় রবার্ট ফিকো সতর্ক করে বলেন, “সর্বব্যাপী সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনার দিক থেকে সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনকার মতো এতটা গুরুতর ও বিপজ্জনক অবস্থায় আগে কখনো পৌঁছায়নি।”
ন্যাটো (NATO) সামরিক জোটের সাথে স্লোভাকিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে ফিকো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের অত্যন্ত সুশৃঙ্খল অংশ, আমরা জোটকে মর্যাদা দেই এবং আমাদের সামরিক প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর। কিন্তু স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, আমার দেশকে যাতে কোনো সশস্ত্র সরাসরি সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে জড়িয়ে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতে আমি সাধ্যের সবটুকু করব।”
ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে উল্লেখ করে ফিকো আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও সামরিক বাগাড়ম্বর মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। তিনি সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, “আজ আমাদের মাঝে শান্তি রয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি যেভাবে ঘোলাটে হচ্ছে—আগামীকাল হয়তো তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার ঠিক আগের দিন তিনি এই খোলামেলা বক্তব্য দিলেন। সফরে স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য ইইউ শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কির সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।

