দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান সীমান্ত সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা এক নতুন ও ভয়াবহ মোড়ে মোড় নিয়েছে। আফগানিস্তানের তিনটি দক্ষিণ ও পূর্ববর্তী প্রদেশে পাকিস্তান বিমান বাহিনী এবং সশস্ত্র ড্রোন পরিচালিত হামলায় অন্তত চারজন আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আফগান সরকারের মূল মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই বিমান হামলায় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করে ইসলামাবাদের এই পদক্ষেপকে আফগান সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন আক্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। চলতি সপ্তাহে এটি আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের দ্বিতীয় বড় ধরনের বিমান হামলার ঘটনা।
পাকিস্তান সরকারের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বিমান হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বুধবার আফগানিস্তান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বেআইনিভাবে সশস্ত্র ড্রোন অনুপ্রবেশ করানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এটি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন।
ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তান সেনাবহিনী আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে কান্দাহার, পাক্তিয়া ও খোস্ত প্রদেশের ১০টি নির্দিষ্ট সামরিক ও ড্রোন সংকেত উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট (Precision) ড্রোন ও বিমান হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূেত্র জানানো হয়েছে, সীমান্ত ঘেরা তোরখাম এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাত আকাশসীমায় পৌঁছানো অন্তত আটটি আফগান ড্রোনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বারবার আফগান ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এর আগে গত সোমবার কুনার ও পাক্তিকায় চালানো সীমান্ত হামলায় এক নারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছিলেন। বারবার এই ধরনের বেপরোয়া সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আফগান সরকার ও জনগণ নীরব থাকবে না এবং এর পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে বলেও হুঁশিয়ার করে কাবুল।

