তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সদ্য স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পরবর্তী দেশ হিসেবে মিশর যোগ দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কায়রোর সদস্যপদ লাভের বিষয়টি আঙ্কারা ও রিয়াদের বিবেচনায় রয়েছে।
গত ৭ আগস্ট (শুক্রবার) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যৌথভাবে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির প্রধান শর্ত হলো যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা—যেখানে কোনো সদস্য দেশ বহিরাগত হুমকির মুখে পড়লে বাকি দেশগুলো সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে। একে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করা হলেও, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা একে ‘পশ্চিমা ব্লকের আঞ্চলিক সংস্করণ’ না বলার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং চুক্তিটি কোনো সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এরদোয়ান জানান:
জ্বালানি নিরাপত্তা: বিশ্ব বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি সচল রাখাকে আঙ্কারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ফিলিস্তিন ও লেবানন: গাজায় মানবিক ও রাজনৈতিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে ট্রাম্পের কার্যকর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন অস্ত্র: ইইউ-এর সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ কমার কথা জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, দীর্ঘদিনের বিবাদের অবসান ঘটিয়ে S-400 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি করে আমেরিকা থেকে F-35 যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে পুনরায় যোগ দেওয়ার পথ উন্মুক্ত হচ্ছে।
সমর বিশ্লেষকদের মতে, কায়রো যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্লকে যোগ দেয়, তবে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিশর—চারটি প্রভাবশালী পরাশক্তি একই ছাতার নিচে আসবে, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির অর্থনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যে এক ঐতিহাসিক রূপান্তর ঘটাবে।

