আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এরিকা গুয়েভারা রোসাস মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ওপর নিন্দনীয় হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, আইসিসিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিশ্বজুড়ে সংঘটিত অপরাধের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে যুক্তরাষ্ট্রের এটি একটি ‘ক্রমবর্ধমান অপপ্রচার ও অপচেষ্টার’ অংশ।
সম্প্রতি আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর সমালোচনা করে এরিকা গুয়েভারা রোসাস স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনোভাবেই ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন নয়’। বরং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের তদন্তকারী ও বিচারকদের শাস্তি প্রদান এবং ক্ষমতাধর গোষ্ঠী ও মিত্রদের জবাবদিহি থেকে সুরক্ষা দেওয়াই মার্কিন প্রশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব রাষ্ট্রগুলোর উচিত আইসিসির মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখা, যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের মুখে না পড়ে আদালত তার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি। ইসরায়েল ও তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই উক্ত পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

