ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘চলো দিল্লি মার্চ’-এর ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। এ উপলক্ষে পুলিশ ও লাঠিচার্জের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ছাত্র, যুবক ও সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কিংবা পুলিশ বিরোধী মিছিল দমাতে কোনো ধরনের ‘কৌশল’ প্রয়োগের সাহস পাবে না।
রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেন, এই মিছিল কোনো একক রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও সংবিধান সুরক্ষার লড়াই। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে ভারতের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ধারণা অনুযায়ী, রাজধানীসহ ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ ১২ একর আয়তনের রামলীলা ময়দানে একত্র হতে পারেন।
রামলীলা ময়দান ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩,০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। নজরদারির জন্য ১৫০টি উচ্চ রেজল্যুশনের এআই-সক্ষম সিসিটিভি ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহৃত হবে। এছাড়া নিরাপত্তাকর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা থাকবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তার জন্য রামলীলা ময়দানের ৮টি ফটকের একটিকে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সাধারণ বিক্ষোভকারীদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে রাজঘাট ও মাতা সুন্দরী কলেজ মাঠে, তবে নয়াদিল্লি বা যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল রোধে পুলিশ কঠোর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।

