ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন ডানপন্থী লিকুদ পার্টি (Likud Party) আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের মুখোমুখি হলে ‘ভোট চুরি’ ও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলার কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। বুথ সমীক্ষা ও নির্বাচন-পূর্ব জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের সঙ্গে কড়া টক্করের পূর্বাভাস আসার পরই এমন পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, লিকুদ পার্টি ইতোমধ্যেই নিজেদের নির্বাচনী বুথ পর্যবেক্ষক ও লিগ্যাল টিমকে প্রস্তুত রাখছে, যাতে ফল বিপক্ষে গেলে দ্রুত আদালতের শরণাপন্ন হওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তোলা যায়।
লিকুদ পার্টির কৌশল ও প্রচার: লিকুদ পার্টির শীর্ষ নেতারা দাবি করছেন, বিশেষ করে সংখ্যালঘু এবং আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ‘অনিয়ম ও জালিয়াতির’ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি মূলত পরাজয়ের ঝুঁকি এড়াতে সমর্থকদের আগে থেকেই উত্তেজিত রাখার কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা: বিরোধী দলগুলো ও তাদের জোট নেতারা এই অভিযোগকে ‘ইসরায়েলি গণতন্ত্রের ওপর প্রকাশ্য আঘাত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসরণ করা পথ ধরে নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা ধ্বংস করতে চাইছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া: ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (CEC) স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ধরনের ডিজিটাল ও কায়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কারচুপির ভুয়া অভিযোগ তুলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

