চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে আঘাত হানা ৭.০ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তিব্বতের দুর্গম উত্তর পাহাড়ি এলাকায় এ ভয়াবহ ভূকম্পন অনুভূত হয়।
ভূপৃষ্ঠের কম গভীরতায় সৃষ্ট এই তীব্র কম্পনে অঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিনশত ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূ-কম্পনটির প্রধান উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতের নাগচু (Nagqu) অঞ্চলে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। স্থানটি অত্যন্ত দুর্গম এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৪,৮৬৪ মিটার। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে এ অঞ্চলের দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
হঠাৎ রাতে তীব্র ঝাঁকুনির ফলে নাগচু অঞ্চল ও এর আশপাশের গ্রামীণ জনপদে অন্তত সাড়ে তিনশত কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে। এটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর সমগ্র চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
ঘটনার পরপরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুর্গম তিব্বত অঞ্চলে সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সামরিক বাহিনী, দুর্যোগ মোকাবিলা দল এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে মোতায়েন করে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।

