জীবনযাত্রার ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান অবনমন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সে নতুন করে দেশব্যাপী ব্যাপক সমাবেশ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে দেশটির প্রধান ছাত্র সংগঠন ‘ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস অব ফ্রান্স (ইউএনইএফ)’। একই সাথে আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে ফ্রান্সের মধ্যাঞ্চলীয় শহর অরলিন্সে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল।
চলমান এই সামাজিক অসন্তোষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সহিংস কর্মসূচির হাত থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্যারিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ও লুটপাটের ডাক ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার মাঠ পর্যায়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।” এছাড়া ইতোমধ্যে লিওঁ শহরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্যারিসে অনুমোদিত মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট সড়ক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে শনিবার রাজধানী প্যারিসের বিশ্বখ্যাত ল্যুভর জাদুঘরসহ প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি ‘বাসেল শিল্পমেলা’ নির্ধারিত সময়ের আগেই গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দেশের ভেতরে উত্তাল পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত নাইজেরিয়া ও সেনেগাল সফর পিছিয়ে দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। আজ শীর্ষ মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি প্রতিরক্ষা পরিষদ (Defense Council) বৈঠক করেছেন তিনি। প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তও নিয়েছে মাখোঁ প্রশাসন।
ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১৭ অক্টোবরের সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২১৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যাদের অর্ধেকেরই অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

