তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Mecca Joint Defence Agreement) প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের (Ratification) জন্য দেশটির সংসদে (Grand National Assembly of Turkey) উত্থাপন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তুরস্কের সংবিধানের ৯০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো চুক্তি কার্যকর করার আগে সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন থাকায় বিলটি সংসদের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্পিকার চুক্তিটি অধিকতর পর্যালোচনার জন্য পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে পাঠাচ্ছেন। তবে তুর্কি সংবিধান ও আইনি রূপরেখা অনুযায়ী, এই চুক্তি অনুমোদন পাওয়া এবং বিদেশের মাটিতে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া।
পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে সরকারের এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র বিতর্কের আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধী দল (বিশেষ করে মূল বিরোধী দল সিএইচপি – CHP) অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, ইয়েমেন বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় এলাকায় তুর্কি সেনা পাঠানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপে দেশ যুক্ত হয়ে পড়তে পারে।
চুক্তিটি পাসের জন্য তুর্কি সংসদে কোনো দুই-তৃতীয়াংশ বা বিশেষ উচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন নেই। সংসদে উপস্থিত সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনেই চুক্তিটি অনুমোদিত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন দল একেপি (AKP) ও তাদের রাজনৈতিক জোটের সংসদে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় চুক্তিটির সংসদীয় অনুমোদন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।
চুক্তিটি সংসদে অনুমোদিত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদেশে তুর্কি সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অনুমতি মিলবে না। এরদোয়ান সরকারকে তুর্কি সংবিধানের ৯২ ধারার অধীনে বিদেশে সেনা মোতায়েনের নির্দিষ্ট মেয়াদ ও পরিসর উল্লেখ করে আলাদা একটি প্রস্তাব বা বিল (Mandate) সংসদে এনে পাস করাতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে এই চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে আত্মরক্ষামূলক এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও স্পর্শকাতর স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

