আন্তর্জাতিক নৌপথ ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে চলমান চরম নিরাপত্তাহীনতা ও জ্বালানি সংকটের জন্য এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর প্রথম তেহরান সফরে আসা রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনগোষ্ঠীর (ইসরায়েল) চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং বেআইনি অর্থনৈতিক অবরোধই আমাদের অঞ্চল, বিশেষ করে উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান উৎস।”
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভের উচ্চপর্যায়ের সফর: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া রোধ করতে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ বার্তা নিয়ে তেহরান পৌঁছেছেন সের্গেই লাভরভ। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।
মস্কোর মধ্যস্থতার প্রস্তাব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থগিত রয়েছে। এমতাবস্থায় অঞ্চলটিতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চায় রাশিয়া।
সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব: ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
হরমুজ অবরোধের বৈশ্বিক ধাক্কা: ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলা প্রচেষ্টার জবাবে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সিংহভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতি সংকট তৈরি করেছে।

