ইয়েমেনের রাজধানী সানার আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হেনেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় জ্বালানি কেন্দ্র ধাহরানে অবস্থিত দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল দানব ‘সৌদি আরামকো’-এর একটি প্রধান প্রশাসনিক ভবন লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সংগঠনটি।
হামলায় ভবনটিতে আগুন ধরে যায়, তবে দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনে উদ্ধারকারী দল। রক্তক্ষয়ী এই হামলা-পাল্টা হামলার জের ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাসমূহের ফ্লাইট স্থগিতসহ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ধাহরানে আরামকো ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ: সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর প্রশাসনিক কার্যালয়ে হুতিদের হামলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ (SPA) নিশ্চিত করেছে যে অগ্নিনির্বাপক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
রিয়াদে এয়ার ডিফেন্সের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও বেসামরিক আহত: হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির ‘যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ হুমকির পরপরই রিয়াদের আকাশসীমায় হুতিদের ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন প্রতিহত করে সৌদি এয়ার ডিফেন্স। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ভূপাতিত ধ্বংসাবশেষে ৪ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং ১৫টি আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) ও রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় ১৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া: নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম, কাতার এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ এবং ডেল্টাসহ প্রধান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স সৌদি আরব ও সংলগ্ন অঞ্চলে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের ‘উগ্র আচরণের’ তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে জোরালো কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানোর কথা উল্লেখ করেছেন।

