ফ্রান্সে জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, তীব্র শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অনিয়মের প্রতিবাদে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব বিক্ষোভ আন্দোলন গড়িয়েছে তৃতীয় সপ্তাহে। বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু (Sébastien Lecornu) অক্টোবরের শেষ নাগাদ বাজেট বৃদ্ধি ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে বৃহস্পতিবার ফরাসি শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে অবরোধ ও রাজপথের মিছিল অব্যাহত রেখেছে।
রয়টার্স ও এএফপি-র তথ্যমতে, শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা এ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ফ্রান্সের চলমান সংকটের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও রাজনৈতিক চিত্র:
৩৭৫টি বিদ্যালয় অবরুদ্ধ ও রাজপথে মিছিল: বৃহস্পতিবার সকালে ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে দেশজুড়ে অন্তত ৩৭৫টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় (Lycée) আংশিক বা পুরোপুরি অবরুদ্ধ রয়েছে। প্যারিসের ২০তম অ্যারোঁদিসঁতে এলাকার এলেন বুশে বিদ্যালয়ের সামনে আবর্জনার বিন দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। প্যারিস ছাড়াও নঁত, রেন, ব্রঁ, তুলোঁ ও মার্সেইয়ের রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও সরকারের প্রতিশ্রুতি: বুধবার রাতে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু প্রতিশ্রুতি দেন যে সরকার অক্টোবরের শেষ নাগাদ সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য সমাধান উপস্থাপন করবে। তবে শিক্ষার্থীরা এই বিলম্বকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। রেন শহরের ১৮ বছর বয়সী আন্দোলনকারী হানা ও ১৭ বছরের সালিনা জানান, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হতাশাজনক। এই সংকট মাসের শেষ নাগাদ ঝুলিয়ে রাখার মতো বিষয় নয়।”
পুলিশি সহিংসতা ও স্টান গ্রেনেড স্থগিত: বিক্ষোভ দমনে দাঙ্গা পুলিশের ভূমিকা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর একটি হাত হারালে তীব্র ক্ষোভের মুখে বুধবার সরকার দাঙ্গা দমনে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইমানুয়েল মাখোঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শেষভাগে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মারিন ল্য পেন শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের দাবি জানালেও কট্টর বামপন্থি নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ পুলিশি ‘বর্বরতার’ তীব্র নিন্দা করে শিক্ষার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন।
জনমতের চিত্র: বিএফএম টিভির (BFM TV) জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৭২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলে মনে করেন, যদিও ৫৫ শতাংশ চান যে রাজপথের এই অবরোধ এবার বন্ধ হোক।

