আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের (US Midterm Elections 2026) পূর্বে ইরানের ওপর নতুন করে কোনো সামরিক আক্রমণ চালানো হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প তেহরানের সাথে চলমান বৈঠকগুলোকে “ফলপ্রসূ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সাময়িকভাবে সামরিক হামলা বন্ধের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আমরা ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো অবস্থাতেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাব না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে, তবে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।”
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নৌ-অবরোধের মধ্যেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ চলমান রয়েছে। অতি সম্প্রতি এক রাতেই এই প্রণালী দিয়ে রেকর্ড ২২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল প্রবাহিত হয়েছে, যার একক এক ব্যারেলও ইরান থেকে আসেনি বা ইরানে যায় নি।
কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ দিলেও ট্রাম্প পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, মার্কিন প্রশাসন কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে ইরান ও আঞ্চলিক ড্রোন/ক্ষেপণাস্ত্র সংঘাতের পর জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়। তবে হরমুজ প্রণালীর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বর্তমানে তা থমকে রয়েছে।

