ফ্রান্সে শিক্ষা খাতের সংকট, জরাজীর্ণ ভবন ও অতিরিক্ত ক্লাসের চাপের প্রতিবাদে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন দেশজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের (লিসে) শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা। সহিংসতা ও ভাঙচুরের প্রেক্ষাপটে এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ, যাদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এএফপির প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত ফ্রান্সজুড়ে অন্তত ৮৬ হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন এবং রাজধানী প্যারিসে আরও ৪০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছেন।
শত শত স্কোলে অবরোধ ও মিছিল: সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শত শত উচ্চবিদ্যালয়ের (লিসে) প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। মার্সেই, নঁতে ও প্যারিসের রাজপথে ব্যানার হাতে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করছেন—যেখানে লেখা রয়েছে, “স্কুলে অর্থ নেই, দেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।”
সহিংসতা ও পুলিশের অ্যাকশন: বিক্ষোভের মুখে ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। জবাবে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, টিয়ারশেল ও স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে। পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং আরেক তরুণের দাঁত ভেঙে গেছে।
বিপুল হতাহতের সংখ্যা: সংঘাতের ফলে ২১৫ জন শিক্ষার্থী, ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য এবং ৮৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী আহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে ‘মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ অভিযোগ তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক বিতর্ক: ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা শিক্ষক সংকট ও ভবন সংস্কারের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে সরকারের দাবি, কট্টর বামপন্থি রাজনৈতিক দল ‘ফ্রান্স আনবোদ’ (LFI) তরুণদের উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে।

