ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের উত্থাপিত সাতটি (৭) শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খোলা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এক অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের (ইসলামাবাদ সমঝোতা) ভিত্তিতে এসব শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে বলে রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) স্পিকার গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গণমাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গোপনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শর্ত শিথিলের প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। তবে একতরফা শর্ত চাপিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ আর নেই বলে তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন।
একদিকে কূটনীতিক পথ খোলা রাখা, অন্যদিকে সামরিক প্রতিরক্ষার হুংকার—তেহরানের অবস্থান দ্বিমুখী কৌশল নির্দেশ করছে:
ইসলামাবাদ সমঝোতা ও স্পিকারের হুঁশিয়ারি: স্পিকার গালিবাফ বলেন, “ইরানের অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নির্ধারিত আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৭ দিনের ডেডলাইন: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের প্রস্তাবগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়, তবে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক ও নৌযান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব।
সামরিক প্রস্তুতির চরম বার্তা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, তেহরান কূটনীতি আশা করলেও ওয়াশিংটন যদি সামরিক পদক্ষেপ বেছে নেয়, তবে ইরান অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

