ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের জেরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। রোববারের (৪ অক্টোবর ২০২৬) নির্ধারিত জোড়া প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে ইন্ডিয়া গেট ও যন্তর মন্তর সংলগ্ন পুরো কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকায় প্রায় ৫ হাজার পুলিশ সদস্য, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে দিল্লি পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইন্ডিয়া গেট থেকে ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর পর্যন্ত কোনো ধরনের মিছিল বা সমাবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিক ও বিরোধী কর্মীর সমাগম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নয়াদিল্লি পুলিশ প্রশাসন ও ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিক বিশেষ নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
জোড়া মিছিল ও পথ অবরোধ: বিকেল ৩টায় ‘সিটিজেনস মার্চ’ এবং বিকেল ৫টায় ‘ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস’-এর পৃথক দুটি মিছিলের ঘোষণা রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে প্রবেশ ঠেকাতে টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ, কেরালা ভবন, অশোকা রোড এবং সি-হেক্সাগনের সংযোগ সড়কগুলোতে বহুস্তরের কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
প্রযুক্তি ও দাঙ্গা প্রতিরোধি সরঞ্জাম: যন্তর মন্তরমুখী সব সড়কে পিসিআর ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (DCP) কার্যালয় থেকে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। মোতায়েনকৃত পুলিশ সদস্যদের দেওয়া হয়েছে আধুনিক দাঙ্গা নিয়ন্ত্রক সরঞ্জাম।
এফআইআর ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ তদন্ত: সম্প্রতি যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ৩টি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে, বিক্ষোভ দমনে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নারী বিক্ষোভকারী ও পেশাগত দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকদের যৌন হয়রানির ৩টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির জন্য নয়াদিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের (Crime Branch) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

