ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহেই সামরিক ভারসাম্যে নতুন রেড লাইন টেনে দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং ন্যাটোভুক্ত দেশ পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া দ্বারা বেষ্টিত কৌশলগত এলাকা ‘কালিনিনগ্রাদ’-এ সরাসরি আক্রমণ হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ অস্ত্রাগারের সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারে মস্কো প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মস্কোতে আয়োজিত বার্ষিক ‘ভালদাই ডিসকাশন ক্লাব’-এর প্রেস্টিজিয়াস ফোরামে বিশ্ব রাজনীতির সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণকালে পশ্চিমাদের উদ্দেশ্য করে ভ্লাদিমির পুতিন এই সতর্কবার্তা জানান।
সম্প্রতি বাল্টিক সাগরে ন্যাটোর বড় আকারের সামরিক মহড়া ও কৌশলগত পদক্ষেপকে রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ক্রেমলিন।
পারমাণবিক ও সামরিক জবাবের স্পষ্ট বার্তা: পুতিন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন— “যদি রাশিয়ান ফেডারেশনের ওপর সরাসরি হামলা হয়, বিশেষ করে কালিনিনগ্রাদ বা অন্য কোনো ভূখণ্ডে আঘাত আসে, তবে আমাদের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনিবার্যভাবেই সামনে আসবে। এটি কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।”
অবরোধ চেষ্টার প্রতিরোধ: গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আকাশ বা সমুদ্রপথে কালিনিনগ্রাদকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মস্কো। বাল্টিক সাগরে ধারাবাহিকভাবে ন্যাটোর মহড়া এবং রুশ বাণিজ্যিক ও সামরিক নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর প্রচেষ্টায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন পুতিন।
ইউরোপে আগ্রাসনের অবস্থান পরিষ্কার: রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ইউরোপের অন্য কোনো দেশে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই; তবে পশ্চিমা কোনো শক্তি রাশিয়ার সার্বভৌমত্বে আঘাত করলে সামরিক জবাব হবে শতভাগ নিশ্চিত।

