আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি ডেস্ক: ভারতের প্রধান বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের শীর্ষ বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোরালো বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে বিরোধীদের আন্দোলন জোরদার করার বার্তা দেন মমতা।
বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
‘আমরা লড়ব, আমরা জিতব। গণতন্ত্র ফিরে আসবে, সংবিধান রক্ষা করব। এর জন্য যদি আমাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তবুও আমরা প্রস্তুত।’
মমতার বক্তব্যের সময় সোনিয়া গান্ধী হাসিমুখে টেবিলে হাত চাপড়ে সমর্থন জানান এবং বক্তব্য শেষে মমতার পিঠে হাত রেখে সহমর্মিতা ও সমর্থন প্রকাশ করেন। এই মুহূর্তের ভিডিওটি সর্বভারতীয় কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে শেয়ার করা হয়েছে।
নয়াদিল্লি বৈঠকের কৌশলগত এজেন্ডা ও উপস্থিত নেতৃত্ব
নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর যৌথ উদ্বেগ ও কৌশল নির্ধারণ করতে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলেসহ জোটের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠকে সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী:
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব গ্রহণের তাগিদ: অধীর চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার নতুন করে এই ঘনিষ্ঠতার অর্থ কি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হিসেবে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে মেনে নেওয়া?
তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ: তিনি দাবি করেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শুরুতেই যদি মমতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে নির্দ্বিধায় সমর্থন করতেন, তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিয়ত কংগ্রেসকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তবে অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

