বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থা ও ইরান সংঘাত নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং তেহরানের প্রতি বেইজিংয়ের অবস্থান নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বার্তা বিনিময় হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়ে কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমি মনে করি, আমরা দারুণ কিছু করতে যাচ্ছি।”
একই দিনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি (CNBC)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ ইরান যুদ্ধের পটভূমিতে চীনের অবস্থান নিয়ে আলোকপাত করেন।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ ধরে রাখতে ইরানকে চীন কোনোভাবে সহায়তা করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত পারডিউ স্পষ্ট করে বলেন, “ইরানের প্রতি চীনের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।”
তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, তেহরানকে বেইজিংয়ের এই ধরনের কৌশলগত বা পরোক্ষ সহায়তা দেওয়া যে ওয়াশিংটনের কাছে ‘একদমই অগ্রহণযোগ্য’, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে জানিয়ে দিয়েছেন।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যকার সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের প্রধান রুট। ইরান সংঘাতের কারণে এই নৌপথে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Global Supply Chain) ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই যোগাযোগকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

