ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র (Mecca Defense Pact) আওতাভুক্ত কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে না; বরং আক্রান্ত দেশের ‘অনুরোধ ও সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনের’ ভিত্তিতে তুরস্ক প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে স্পষ্ট করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়িপ এরদোয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাময়িকী নিউজউইক (Newsweek)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই কৌশলগত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
গত আগস্টে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
তবে এই চুক্তির আওতায় স্বয়ংক্রিয় সামরিক পদক্ষেপের ধারণাকে নাকচ করে এরদোয়ান বলেন, “ইরাক, ইয়েমেন কিংবা অন্য কোথাও যেকোনো সশস্ত্র ঘটনা ঘটলেই একটি স্বয়ংক্রিয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার পরিস্থিতি কল্পনা করা এই পর্যায়ে ঠিক হবে না।”
তিনি জানান, সদস্যদেশের ওপর সামরিক আক্রমণ হলে সহায়তার মাত্রা নির্ধারণ করা হবে নিম্নলিখিত ধাপগুলোর ওপর ভিত্তি করে:
পরিস্থিতি ও হুমকির গাম্ভীর্য: হামলার হুমকি কতটা গুরুতর তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা।
গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা: প্রাথমিক পর্যায়ে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য (Intelligence Sharing), লজিস্টিক সাপোর্ট এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করা।
উন্নত সামরিক পদক্ষেপ: হুমকির তীব্রতা অত্যধিক হলে এবং আক্রান্ত দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানালে আরও উন্নত সামরিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা।

